Saturday, April 16, 2011

লোগো ডিজাইন তৈরীর নিয়ম


লোগো ডিজাইন গ্রাফিক ডিজাইনারদের একটি গুরুত্বপুর্ন কাজ। প্রায় প্রতিটি প্রতিস্ঠানই তাদের নিজস্ব লোগো ব্যবহার করে। এই লোগোগুলি তাদের পরিচিতি তুলে ধরে। কাজেই লোগো তৈরী সময় তাকে সুন্দর রাখা যেমন জরুরী তেমনি সেই প্রতিস্ঠানকে প্রকাশ করাটাও গুরুত্বপুর্ন। সেখানেই প্রশ্ন ওঠে, লোগো ডিজাইনের সময় কি কি বিষয় লক্ষ্য করা উচিত। কিংবা ভাল এবং মন্দ লোগোর পার্থক্য বিচার হয় কিভাবে। এবিষয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এখানে।

লোগো তৈরী আগে কিছু বিষয় জেনে নেয়া জরুরী। সেগুলি হচ্ছে;

.          লোগোটি কি একেবারে নতুন তৈরী হচ্ছে নাকি আগের লোগোর বদলে ব্যবহার করা হবে।
.          লোগোটি ব্যবহার করবে কে। আপনি কোন প্রতিস্ঠানের হয়ে কাজ করতে পারেন, অথবা নিজের কোম্পানীর জন্য লোগো তৈরী করতে পারেন।
.          লোগো কোন ধরনের বক্তব্য তুলে ধরবে।
.          লোগোর পেছনের প্রতিস্ঠানের কাজ কি।

কোন প্রতিস্ঠানের কাজ করার সময় আপনার প্রথম কাজ, তারকাছে সেই কোম্পানী সম্পর্কে জেনে নেয়া। তারকাছে এমনকিছু শব্দ (Keyword) লিখে নিন যা কোম্পানীর পরিচিতি তুলে ধরে। যেমন Simple, Low cost, Young, Joyful, Inventive, Friendly, Experienced, Energetic, Aristocratic ইত্যাদি। তরুনদের জন্য যারা কাজ করে তাদের লোগো এবং পরিনত বয়সীদের নিয়ে কাজ করা প্রতিস্ঠানের মধ্যে পার্থক্য থাকে। তেমনি যারা কমদামে জিনিষপত্র বিক্রি করে এবং যারা অভিজাত জিনিষপত্র বিক্রি করে তাদের লোগোর ধরনও আলাদা।

কিওয়ার্ডের সাথে একবাক্যে কোম্পানীর পরিচিতি লিখে নিন। প্রতিস্ঠানের কাজ কি, এই প্রশ্নের উত্তরে যা পাওয়া যায় সেটা গুরুত্বপুর্ন।

লোগোর রং ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিন। লোগো কোথায় ব্যবহার করা হবে জেনে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সাধারনভাবে লোগো সবযায়গাতেই ব্যবহার হওয়ার কথা, যেমন বিজনেস কার্ড, লেটারহেড প্যাড, ওয়েবসাইট, পোষ্টার, টিসার্ট, ব্যানার, প্যাকেট, গাড়ি ইত্যাদিতে। সবগুলি বিবেচনায় এনে রং বাছাই করুন।

একাধিক রং ব্যবহার করলে এমন রং বাছাই করুন যেখানে সহজে একটি থেকে অপরটি পৃথকভাবে চেনা যায়। লোগো কখনো সাদাকালো হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। সেখানে এক রং থেকে আরেক রং পৃথকভাবে চেনার মত রং ব্যবহার করুন।

সবচেয়ে পরিচিত লোগোগুলি ভালভাবে দেখে নিন। সেগুলি একদিকে অত্যন্ত সরল, অন্যদিকে বক্তব্য প্রকাশে সমর্থ। এই শ্লোগানগুলি নিশ্চয়ই আপনার পরিচিত, Think Different, Just Do It, Finger-lickin’ good, Impossible is nothingইত্যাদি। তাদের লোগো এই বক্তব্য প্রকাশ করে।

ফন্ট ব্যবহারের দিকে গুরুত্ব দিন। মাইক্রোসফট, কোকাকোলা এই দুটি লোগোতে ব্যবহৃত ফন্টের দিকে দৃষ্টি দিলে সহজেই বোঝা যায় একটি প্রযুক্তি অপরটি তরল কিছু বুঝায়। প্রতিস্ঠানের কাজের সাথে মিল রেখে ফন্ট ব্যবহার করুন।

লোগো কেন প্রয়োজন ? লোগো একটি প্রতিস্ঠানকে পৃথকভাবে চিনতে সাহায্য করে। প্রতিস্ঠানের পরিচিতি অন্যদের কাছে তুলে ধরে। কাজেই সেটা একদিকে যেমন সরল হবে তেমনি শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় বিষয়ই থাকবে। উদাহরনের ছবির লোগোগুলি দেখুন। বিশ্বখ্যাত এই লোগোগুলি একদিকে সরল অন্যদিকে বক্তব্যধর্মী।

ভাল লোগোর বৈশিষ্টগুলি একসাথে করলে সংক্ষেপে যা দাড়ায় তা হচ্ছে;
.          সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন বক্তব্য তুলে ধরা একটি সরল ছবি।
.          ছবি প্রতিস্ঠানের কাজের ধরনের সাথে মানানসই।
.          প্রতিস্ঠানের নাম সেখানে রয়েছে।
.          ফন্ট সহজবোধ্য। লোগোতে কখনো একের অধিক ফন্ট ব্যবহার করবেন না। লোগোর ফন্ট যেন প্রতিককে ছাপিয়ে না যায়।
.          লোগোটি সাদাকালোতেও বোধগম্য।


লোগো তৈরীর সফটঅয়্যার
সহজে লোগো তৈরীর জন্য কিছু সফটঅয়্যার পাওয়া যায়। গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে আপনি নিশ্চয়ই তেমনকিছু ব্যবহার করতে যাচ্ছেন না। আপনার ক্রিয়েটিভ লোগো তৈরী করার কথা, তৈরী কিছু ব্যবহার করা না।
গ্রাফিক ডিজাইন ভেক্টর অথবা বিটম্যাপ দুধরনের হতে পারে। দুভাবেই সুন্দর লোগো তৈরী করা সম্ভব। বিটম্যাপের সমস্যা হচ্ছে যদি কখনো বড় (কিংবা ছোট) করা প্রয়োজন হয় তাহলে মান নষ্ট হয়। ভেক্টর সেদিক থেকে সুবিধেজনক।
কাজেই লোগো তৈরীর জন্য ফটোশপ ব্যবহার না করে ইলাষ্ট্রেটর কিংবা কোরেল ড্র এর মত কোন সফটঅয়্যার ব্যবহার করুন।

Monday, April 11, 2011

কম্পিউটার ব্যবহারে প্রধান ভুলগুলি থেকে সাবধান থাকুন



কম্পিউটারের নানারকম সমস্যার সাথে সকলেই কমবেশি পরিচিত ব্যবহারকারী সচেতন হলে এই সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় যে কারনে আপনি সবচেয়ে বড় বিপদের সামনে পড়তে পারেন তা হচ্ছে;

পাওয়ার প্রোটকশন ব্যবহার না করা : আপনি হয়ত ইউপিএস/এভিআর ব্যবহার করেন না বিপদের এরচেয়ে বড় কারন হতে পারে না বিদ্যুতের ভোল্টে কমবেশি হওয়াই সমস্যাই একমাত্র কারন নয়, আকাশে বিদ্যুত চমকালে সেটাও আপনার পিসিতে চলে আসতে পারে, আর ফল হবে সমস্ত কিছু পুড়ে বাতিল হয়ে যাওয়া

ফায়ারওয়াল ছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহার করা : আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন অথচ এন্টিভাইরাস/ফায়ারওয়ার ব্যবহার করেন না, আপনার কম্পিউটার আক্রমনের শিকার হবেই বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, স্প্যাম, স্পাইওয়্যার আপনার কম্পিউটারকে ব্যবহারের অনুপযোগি করে তুলবে

সবকিছু ইনষ্টল এবং আনইনষ্টল করা : সামনে যে সফটওয়্যার পেলেন সেটাই ইনষ্টল করলেন, ভাবলেন আন-ইনষ্টল করে ফেলব আপনি হয়ত লক্ষ্য করলেন না আনইনষ্টল করার পরও অনেক ফাইল থেকে যায় বিশেষ করে পাইরেটেড সফটওয়্যারে/গেমে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের কোড ইচ্ছে করে ঢুকিয়ে দেয়া হয় যতটা সম্ভব শুধুমাত্র প্রয়েজনিয় সফটওয়্যার ইনষ্টল করুন

হাডডিস্ক ভর্তি করে রাখা/ডিফ্রাগমেন্ট না করা : আপনি হয়ত বহুকিছু হার্ডডিস্কে কপি করে জমিয়ে রেখেছেন এবং নিয়মিত ডিফ্রাগমেন্ট করেন না যায়গা কম থাকা এবং ডিফ্রাগমেন্ট না করা দুটি কারনেই আপনার কম্পিউটারের গতি কমে যাবে

সব এটাচমেন্ট ওপেন করা : আপনার মেইলবক্সে অনেক মেইল এসে জমা হয়েছে যার প্রেরককে আপনি চেনেন না সেক্ষেত্রে বুদ্ধিমানের কাজ হচ্ছে সেগুলি না খোলা এভাবে ভাইরাস ছড়ানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন পাঠানো হয় একবার এগুলি ব্যবহার করলে মেইল বক্সে হাজার হাজার মেইল আসতে শুরু করবে

সব যায়গায় ক্লিক করা : ইমেইল এটাচমেন্ট একমাত্র যায়গা না, ইমেইলে কিংবা বিভিন্ন ওয়েব সাইটে যে লিংকগুলি রয়েছে সেখানে নিশ্চিত না হয়ে ক্লিক না করা ভালো নিজেকে একবার জিজ্ঞেস করে নিন, সেটা কি আপনার কোন প্রয়োজন আছে ? পাইরেসি, পর্নগ্রাফি ইত্যাদি সাইটে যাওয়ার অর্থ কম্পিউটারের জন্য বিপদ ডেকে আনা

সবকিছু শেযার করা : অন্যের সাথে জিনিষপত্র শেয়ার করা খুব ভাল, তবে ইন্টারনেটে শেয়ার করার আগে ভাল করে ভেবে নিন যাকে বিশ্বাস করতে পারেন তারসাথে অবশ্যই ফাইল/ফোল্ডার শেয়ার করতে পারেন কিন্তু মাঝখানে আরেকজন সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যচুরি থেকে শুরু করে ভাইরাসের আক্রমন যেকোনকিছুই ঘটতে পারে।

পাশওয়ার্ডে সতর্ক না হওয়া : কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বড় একটি ভুল পাশওয়ার্ডের বিষয়ে শতর্ক না হওয়া কখনো নিজের বা পরিচিত কারো নাম, যায়গার নাম ইত্যাদি পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করবেন না কোন শব্দের সাথে সংখ্যা ব্যবহার করে পাশওয়ার্ড ব্যবহার করুন কখনো সেটা ভুলে যাবেন না

ব্যাকআপ রাখাকে গুরুত্ব না দেয়া : শতরকম সাবধানতা সত্ত্বেও আপনার হার্ডডিস্ক ক্রাশ করতে পারে, অন্য কোন কারনে সমস্যা হতে পারে মুহুর্তের মধ্যে আপনার সমস্ত কাজ হারিয়ে যেতে পারে। গুরুত্বপুর্ন ফাইলগুলো নিয়মিত ব্যাকআপ নেয়ার অভ্যেস করুন এখন সামান্য পরিশ্রম ভবিষ্যতের অনেক সময় বাচিয়ে দেবে

ইমেইল সফটঅয়্যার ব্যবহার : আউটলুকে জিমেইল ব্যবহার

আপনি হয়ত গুগলের জিমেইল, কিংবা ইয়াহু মেইল ব্যবহার করছেন। নতুন ইমেইল পড়ার জন্য কিংবা মেইল পাঠানোর জন্য আপনাকে তাদের সাইটে যেতে হয়। এমনকি, মেইলবক্সে থাকা আগের কোন মেইল যদি পড়তে চান তাহলেও। ইন্টারনেটে সংযুক্ত না থাকলে আপনি সেটা করতে পারেন না।
অথচ অন্য ইমেইল সফটঅয়্যার ব্যবহার করলে আপনি অনায়াসে সেটা ওপেন করে আগের মেইল পড়তে পারেন। এজন্য ইন্টারনেটে সংযুক্ত হওয়া প্রয়োজন নেই। এই সফটঅয়্যারের তালিকায় রয়েছে মাইক্রোসফটের আউটলুক এক্সপ্রেস, মোজিলা থান্ডারবার্ড থেকে শুরু করে অর্থ দিয়ে কেনা ইমেইল সফটঅয়্যারগুলিও।
কিভাবে আপনার বিনামুল্যের ইমেইলকে এধরনের সফটঅয়্যারের সাথে ব্যবহার করবেন জেনে নিন।
এজন্য আপনাকে দুটি কাজ করতে হয়। একটি কাজ হচ্ছে আপনার মুল ইমেইল সাইটে গিয়ে তাকে নির্দিস্ট সফটঅয়্যারের দিকে পাঠানো। অপরটি হচ্ছে সেই সফটঅয়্যারকে সেটি গ্রহন করার জন্য কাষ্টমাইজ করা।
এখানে মেইল সার্ভার হিসেবে গুগলের জিমেইল এবং সফটঅয়্যার হিসেবে আউটলুক উল্লেখ করা হচ্ছে। আপনি অন্য ব্যবস্থায় কাজ করলেও মোটামুটি এই পদ্ধতেই আপনার মেইল কনফিগার করার সুযোগ পাবেন। উদাহরনের অপারেটিং সিষ্টেম উইন্ডোজ এক্সপি। অন্য অপারেটিং সিষ্টেমে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।
.          আপনার জিমেইল পেজ ওপেন করুন এবং সেটিং থেকে মেইল সেটিং সিলেক্ট করুন।
.          ফরওয়ার্ডিং টু পিওপি ট্যাব সিলেক্ট করুন।
.          আপনার মেইলকে অন্য ই-মেইল এড্রেসে পাঠানোর জন্য Forward a copy of incoming mail to অংশে ইমেইল এড্রেস টাইপ করে দিন।
.          পিওপি (POP) এনাবল করুন।
আউটলুট এক্সপ্রেস কনফিগার করা
.          আউটলুক ওপেন করুন এবং নতুন ইউজার তৈরী করুন।
.          এখানে দেয়া তথ্য অনুযায়ী সেটিং ঠিক করুন।

এরপর সরাসরি আউটলুক থেকে জিমেইল এর মেইল পাওয়া যাবে এবং এখান থেকেই মেইল পাঠানো যাবে।

Sunday, April 10, 2011

দু’টি দূর্লভ সফটওয়্যার tuneUp utilities 2011 + techsmith snagit 2010.

এই সফটওয়্যার দু’টির ভক্ত নেই এমন মানুষ বোধহয় খুঁজে পাওয়া দায়।প্রথমেই আপডেট প্রসঙ্গে আসছি tuneUp utilities 2011 ভার্সনটি নিয়ে।আশা করছি অনেকেই উপকৃত হবেন
tuneup utilities portable 11 tuneUp utilities 2011 + techsmith snagit 2010.দূর্লভ সফটওয়্যার দুটির কোনটি নিবেন নাকি দুটোই নিবেন সিদ্ধান্ত আপনার। | Techtunes

আপনার কম্পিউটারকে ঝামেলামুক্ত রাখতে এই সফটওয়্যারটির জুড়ি নেই।আপনার কম্পিউটারের কি কি সমস্যা তা চিহ্নিত করে সমাধান দেয়াই এর কাজ।যারা আগ্রহী তারা ডাউনলোড করুন মিডিয়া ফায়ার থেকে মাত্র ১৯ মেগাবাইটের এই সফটওয়্যারটি।
100510 tuneuputilities2011 tuneUp utilities 2011 + techsmith snagit 2010.দূর্লভ সফটওয়্যার দুটির কোনটি নিবেন নাকি দুটোই নিবেন সিদ্ধান্ত আপনার। | Techtunes
ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

brand tuneUp utilities 2011 + techsmith snagit 2010.দূর্লভ সফটওয়্যার দুটির কোনটি নিবেন নাকি দুটোই নিবেন সিদ্ধান্ত আপনার। | Techtunes
হটফাইল ডাউনলোড লিঙ্ক(আপডেট)

ইন্সটলের পর যখন পাসওয়ার্ড চাইবে তখন কী’জেন ওপেন করুন
s2 tuneUp utilities 2011 + techsmith snagit 2010.দূর্লভ সফটওয়্যার দুটির কোনটি নিবেন নাকি দুটোই নিবেন সিদ্ধান্ত আপনার। | Techtunes
মনে রাখবেন লাল চিহ্নিত জায়গাতে সাল ২০১১ সিলেক্ট করে নিবেন।আসুন ছবিতে দেখি এর কার্যপ্রনালী
s3 tuneUp utilities 2011 + techsmith snagit 2010.দূর্লভ সফটওয়্যার দুটির কোনটি নিবেন নাকি দুটোই নিবেন সিদ্ধান্ত আপনার। | Techtunes
s4 tuneUp utilities 2011 + techsmith snagit 2010.দূর্লভ সফটওয়্যার দুটির কোনটি নিবেন নাকি দুটোই নিবেন সিদ্ধান্ত আপনার। | Techtunes
s5 tuneUp utilities 2011 + techsmith snagit 2010.দূর্লভ সফটওয়্যার দুটির কোনটি নিবেন নাকি দুটোই নিবেন সিদ্ধান্ত আপনার। | Techtunes
s6 tuneUp utilities 2011 + techsmith snagit 2010.দূর্লভ সফটওয়্যার দুটির কোনটি নিবেন নাকি দুটোই নিবেন সিদ্ধান্ত আপনার। | Techtunes
s7 tuneUp utilities 2011 + techsmith snagit 2010.দূর্লভ সফটওয়্যার দুটির কোনটি নিবেন নাকি দুটোই নিবেন সিদ্ধান্ত আপনার। | Techtunes
এবার আপনার ভার্সনটি আপডেট করা আছে কি না দেখুন
s1 tuneUp utilities 2011 + techsmith snagit 2010.দূর্লভ সফটওয়্যার দুটির কোনটি নিবেন নাকি দুটোই নিবেন সিদ্ধান্ত আপনার। | Techtunes
সফটওয়্যারটি কাজ করলে আমার জন্য দোয়া করবেন আর কাজ না করলে গালি দিয়েন না।ধন্যবাদ।
<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ <ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<ঃ<
এবার আসছি আর একটি দূর্লভ সফটওয়্যার techsmith snajit 10 নিয়ে।
আর বেশী কিছু বলতে চাই না।শুধু এইটুকু বলতে চাই যারা টিউন করেন কিংবা কম্পিউটারের পেজে বিভিন্ন কিছুকে বিভিন্নভাবে ইন্ডিকেট করতে সফটওয়্যারটির জুড়ি নেই।মন চাইলে ডাউনলোড করতে পারেন ২৮ মেগাবাইটের এই ২০১০ ভার্সনটি ডাউনলোড করতে পারেন মিডিয়া ফায়ার থেকে
s91 tuneUp utilities 2011 + techsmith snagit 2010.দূর্লভ সফটওয়্যার দুটির কোনটি নিবেন নাকি দুটোই নিবেন সিদ্ধান্ত আপনার। | Techtunes
ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

পাসওয়ার্ড দেয়াই আছে এক্টিভ করে ব্যবহার শুরু করুন।সময় নষ্ট করে কষ্ট করে আমার এই টিউনটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ না দিয়ে পারছি না।সেই সাথে ভালো থাকবেন এমন প্রত্যাশা রেখে বিদায় নিচ্ছি।আল্লাহ হাফেজ।

Monday, April 4, 2011

ইন্দ্রলাল রায়: প্রথম বাঙালি ফাইটার পাইলট ও প্রথম মহাযুদ্ধের বিস্মৃতপ্রায় এক বীরসেনানী






দিনটি ছিল ১৯ জুলাই ১৯১৮। প্রথম মহাযুদ্ধ চলছে। ফ্রান্সের আকাশে জার্মান বিমানবাহিনী ও ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনী তুমুল আকাশযুদ্ধে লিপ্ত। ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ ফাইটার পাইলট সেদিন ডগফাইটের সময় একটি জার্মান জঙ্গীবিমান গুলি করে ভূপাতিত করলেন। এটি ছিল তাঁর দশম শত্রুবিমান শিকার–যে কৃতিত্বের জন্য তিনি পেয়েছিলেন ‘ফ্লাইং এইস’ (Flying Ace) খেতাব।
এই খেতাব পাওয়ার জন্য যেখানে সাধারণত পাঁচটি শত্রুবিমান ঘায়েল করাই যথেষ্ট, সেখানে তিনি খতম করেছিলেন দশটি! আকাশযুদ্ধের সেই প্রথম যুগে, সদ্যযুবক এক ফাইটার পাইলটের মাত্র তের দিনের, ১৭০ উড়াল-ঘন্টার এক অতি-সংক্ষিপ্ত লড়াই-জীবনের পক্ষে এটি ছিল এক অসামান্য বীরত্বপূর্ণ কৃতিত্ব–যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এই অকুতোভয় বীরসেনানীর নাম ইন্দ্রলাল রায়–প্রথম বাঙালি ফাইটার পাইলট এবং প্রথম বাঙালি বা ভারতীয় ‘ফ্লাইং এইস’।
বরিশালের এক জমিদার পরিবারের সন্তান ইন্দ্রলাল রায় ১৮৯৮ সালের ২ ডিসেম্বর তারিখে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ব্যারিস্টার পি. এল. রায় ও মাতার নাম ললিতা রায়। পড়াশোনার জন্য দশ বছর বয়সে তাঁকে লন্ডনে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। এরপর তিনি অক্সফোর্ডে পড়ার জন্য বৃত্তিলাভ করেন।
কিন্তু অক্সফোর্ডে পড়তে না গিয়ে তিনি বিমানচালনার নেশায় ১৯১৭ সালের এপ্রিল মাসে ১৮ বছর বয়সে ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনী (Royal Flying Corps)-তে  অফিসার ফ্লাইং ক্যাডেট হিসেবে নাম লেখান। একই বছরের ৫ জুলাই তারিখে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন লাভ করেন। পেশাগত প্রশিক্ষণশেষে তিনি ৩০ অক্টোবর ১৯১৭ তারিখে ফ্রান্সে যুদ্ধরত রাজকীয় ৫৬ স্কোয়াড্রনে যোগ দেন।
এর কিছুদিন পরই, ৬ নভেম্বর ১৯১৭ তারিখে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। কথিত আছে, হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রথমে তাঁকে ‘মৃত’ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তিনি বেঁচে ওঠেন। তবে তাঁকে শারীরিক কারণে ‘গ্রাউন্ডেড’ করা হয়। তারপর তিনি অনেক সাধ্য-সাধনা করে, পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া সত্ত্বেও, আবার সক্রিয় যুদ্ধে ফিরে যান এবং তাঁকে লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। ১৯১৮ সালের  ১৯ জুন তারিখে তাঁকে ফ্রান্সে যুদ্ধরত রাজকীয় ৪০ স্কোয়াড্রনে বদলি করা হয়।
আকাশযুদ্ধে তাঁর প্রথম সাফল্য আসে ৬ জুলাই ১৯১৮ তারিখে একটি জার্মান জঙ্গীবিমান ধ্বংস করার মাধ্যমে। এরপর তিনি ৮ জুলাই তারিখে চার ঘন্টায় তিনটি; ১৩ জুলাই দুইটি; ১৫ জুলাই দুইটি; এবং ১৮ জুলাই তারিখে একটি শত্রুবিমান ধ্বংস করেন। তাঁর সবশেষ সাফল্য আসে ১৯ জুলাই তারিখে, যার কথা লেখার প্রথমেই বলেছি। ৬ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মাত্র তের দিনে দশটি শত্রুবিমান ঘায়েল করে তিনি ঠাঁই পেয়ে যান ইতিহাসের পাতায়।
এর তিন দিন পর, ২২ জুলাই ১৯১৮ তারিখে ফ্রান্সের আকাশে জার্মান বিমানবাহিনীর সাথে এক সম্মুখ যুদ্ধে তাঁর এসই-৫এ বিমানটি ফ্রান্সের জার্মান অধিকৃত এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। জার্মান সেনারা তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে সেখানেই সমাহিত করে। কথিত আছে, তাঁর অসাধারণ বীরত্বের কথা মনে রেখে সেই জার্মান শত্রুসেনারাও তিনি যেখানে পতিত হয়েছিলেন, সেখানে ফুলের তোড়া রেখে আসে। ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনী তাঁর অসামান্য কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মরণোত্তর, অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘ডিস্টিংগুইশড ফ্লাইং ক্রস’ (DFC) পদকে ভূষিত করে।
ভারত সরকার ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে ইন্দ্রলাল রায়ের জন্মশতবার্ষিকীতে স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করে। এছাড়া ফ্রান্সে তাঁর সমাধির ওপর বাংলা ও ফরাসি ভাষায় গৌরবগাঁথা লেখা হয়। তাঁর নামে কলকাতায় একটি সড়কও রয়েছে। এই বাঙালি বীরের পরিবারের আরেক সন্তান, এয়ার মার্শাল সুব্রত মুখার্জিও ছিলেন একজন ফাইটার পাইলট ও স্বাধীন ভারতের প্রথম বিমানবাহিনী প্রধান।
আমরা কয়জন জানি এই বাঙালি বীরসন্তানের নাম?
তথ্যসূত্র:
১। এশিয়ান্‌স ইন ব্রিটেন: ফোর হান্ড্রেড ইয়ার্‌স অব হিস্ট্রি, রোজিনা ভিস্রাম, ২০০২।
২। উইকিপিডিয়া
৩। হাবপেজেস ও অন্যান্য।
প্রকাশিত লিংক:
১। সোনার বাংলাদেশ ব্লগ
২। মুক্তব্লগ
৩। নাগরিক ব্লগ
৪। চতুর্মাত্রিক ব্লগ
৫। শব্দনীড়
৬। আমার ব্লগ
৭। আমার বর্ণমালা ব্লগ
৮। বিডিনিউজ২৪ ব্লগ

নূর ইনায়েত খান: ‘রাজকন্যা’ থেকে গুপ্তচর হওয়া এক অসমসাহসী নারীর কথা


১২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৪। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়। জার্মানির দাচাউ বন্দীশিবির। সেদিন তখনও ভোরের আলো ভাল করে ফোটেনি। হত্যা করার জন্য ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে যাওয়া হয়েছে শিকলবন্দী চার নারীকে। ঘাতকের গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল একে একে তিনজন। এবার চতুর্থজনের পালা। একজন ঘাতক প্রথমে বন্দুকের বাঁট দিয়ে আঘাত করল তাঁকে। আহত বন্দিনী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ঘাতক তার শক্ত মিলিটারি বুটের ক্রমাগত লাথি দিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত করে ফেলল। তারপর মুমূর্ষ অবস্থায়ই তাঁকে জোর করে হাঁটু গেড়ে বসানো হল। আর কয়েক মুহূর্ত পরেই নিশ্চিত মৃত্যু। তবুও সেই নারী ভেঙ্গে পড়েননি কিংবা মৃত্যুভয়ে কাতর হননি মোটেও। বরং ঘাতক যখন গুলি করার জন্য রাইফেল তাক করেছে তাঁর মাথা বরাবর, ‘স্বাধীনতা’ বলে তিনি জীবনের অন্তিম শব্দটি উচ্চারণ করলেন দ্রোহে, দৃঢ়তায়। এভাবেই মাত্র তিরিশ বছর বয়সে মৃত্যুকে বরণ করে নিলেন সেই অকুতোভয় নারী। তিনি নূর ইনায়েত খান–শান্ত, লাজুক ‘রাজকন্যা’ থেকে দুঃসাহসী গুপ্তচরে পরিণত হওয়া এক অসামান্যা ভারতীয় নারী।
তিনি জন্মেছিলেন মহীশুরের কিংবদন্তীতুল্য শাসক টিপু সুলতানের রাজবংশে। তাই জন্মগতভাবে তিনি ছিলেন একজন ‘প্রিন্সেস’। তাঁর পিতা ছিলেন টিপু সুলতানের প্র-প্রপৌত্র প্রিন্স ইনায়েত খান–একজন সুফিসাধক ও সঙ্গীতজ্ঞ। তাঁর মাতা ছিলেন একজন আমেরিকান, অরা মীনা রে বেকার ওরফে আমিনা বেগম। নূর-উন-নিসা ইনায়েত খানের জন্ম হয় রাশিয়ার মস্কোতে, ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
নূরের জন্মের পর পরই তাঁর পরিবার রাশিয়া থেকে ইংল্যান্ডে চলে যায় এবং লন্ডন শহরে বসবাস শুরু করে। এ সময় ছোট্ট নূরকে কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয়। কিন্তু স্বদেশের স্বাধীনতাকামী প্রিন্স ইনায়েত খান একজন কট্টর জাতীয়তাবাদী ও মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের একনিষ্ঠ সমর্থক হওয়ার কারণে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে সন্দেহের চোখে দেখত। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি তাঁর পরিবার নিয়ে ১৯২০ সালে ফ্রান্সে চলে যান এবং প্যারিসের উপকণ্ঠে ‘ফজল মঞ্জিল’ নামক একটি বাড়িতে ওঠেন।
ইউরোপে জন্ম এবং বসবাস হলেও নূর বেড়ে ওঠেন তাঁর পিতার অহিংস সুফি আদর্শ, ভারতীয় সংস্কৃতি ও রক্ষণশীল পারিবারিক আবহকে ধারণ করে। ছোটবেলা থেকেই তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ধ্রুপদী সঙ্গীতে তালিম নেন। তিনি প্যারিসের একটি কনজার্ভেটরীতে সঙ্গীত এবং সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু মনস্তত্ত্বে শিক্ষালাভ করেন। ছোটবেলা থেকেই নূর ছিলেন শান্ত, লাজুক, স্বাপ্নিক ও ভাবুক প্রকৃতির।
১৯২৭ সালে নূরের পিতার আকস্মিক মৃত্যু হলে তাঁর মাতা আমিনা বেগম স্বামীশোকে পুরোপুরি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। ফলে গোটা পরিবারের দায়িত্ব বর্তায় নূরের ওপর। এসময় তিনি প্যারিসে বিভিন্ন শিশু সাময়িকীতে লেখালেখি এবং রেডিওতে শিশুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতেন। পরে তাঁর লেখা একটি শিশুতোষ বইও প্রকাশিত হয়।
এরই মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। আগ্রাসনকারী জার্মান বাহিনী ফ্রান্স দখল করে নিলে নূরের পরিবার প্যারিসে থাকা আর নিরাপদ মনে করল না। ফ্রান্স থেকে পালিয়ে ১৯৪০ সালের জুন মাসে আবার তারা ইংল্যান্ডে ফিরে আসে। কিন্তু ইংল্যান্ডের আকাশেও তখন যুদ্ধের ঘনঘটা। জার্মান বাহিনীর নির্বিচার আগ্রাসন এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা ও নৃশংসতা দেখে নূর ও তারঁ ভাই বিলায়েত খান নিস্পৃহ না থেকে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন–যদিও তা ছিল তাঁদের প্রয়াত পিতার অহিংস সুফি আদর্শের পরিপন্থী।
১৯৪০ সালের ১৯ নভেম্বর নূর ব্রিটিশ উইমেন্স অক্সিলিয়ারি এয়ার ফোর্স (WAAF)-এ যোগ দেন এবং রেডিও অপারেটর হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁকে রাজকীয় বিমানবাহিনীর বম্বার ট্রেনিং স্কুলে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানকার কাজ তাঁর কাছে একঘেয়ে লাগায় তিনি কমিশন্ড পদবির জন্য আবেদন করেন। ফরাসি ভাষার ওপর তাঁর দক্ষতার কারণে পরবর্তীতে তাঁকে চার্চিলের বিশেষ গুপ্তচর সংস্থা, স্পেশাল অপারেশন্স এক্সিকিউটিভ (SOE)-এর এফ (ফ্রান্স) সেকশনে ভর্তি করা হয়।
এরপর গুপ্তচর হওয়ার জন্য নূরকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়। প্রশিক্ষণের সময় তিনি নোরা বেকার নাম নেন। কিন্তু এসব প্রশিক্ষণে তাঁর ফলাফল তেমন সন্তোষজনক ছিল না, বরং গুপ্তচর হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ ফিল্ড এসাইনমেন্টের জন্য তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশিক্ষকদের দ্বিধা ছিল। বিশেষ করে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র চালাতে ভয় পেতেন। এমনকি, প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে একটি ‘মক ইন্টারোগেশন’ বা সাজানো জেরার সময় তিনি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন এবং কান্নায় ভেংগে পড়েন! তিনি গুপ্তচর প্রশিক্ষণ পুরোপুরি শেষ করতে পারেননি।
তবে ফরাসি ভাষা ভাল জানার কারণে এবং রেডিও অপারেটর হিসেবে দক্ষতার জন্য কর্তৃপক্ষ তাঁকে গুপ্তচর হিসেবে প্যারিসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। প্যারিসে পাঠানোর আগে কর্তৃপক্ষ নূরকে জানায়, কাজটি অত্যন্ত বিপদজনক এবং শত্রুর হাতে ধরা পড়লে নিশ্চিত মৃত্যু। এসব জেনেও তিনি প্যারিসে গুপ্তচর হিসেবে যেতে রাজি হন। তিনি হলেন শত্রু-অধিকৃত ফ্রান্সে গমনকারী প্রথম ব্রিটিশ নারী গুপ্তচর।
অবশেষে ১৯৪৩ সালের ১৬ জুন তারিখ রাতে নূর তাঁর সাংকেতিক নাম ‘মেডেলিন’, অপারেটর কলসাইন ‘নার্স’ এবং ভুয়া পাসপোর্টে ‘জীন মারি রেগ্নিয়ার’ ছদ্ম পরিচয় নিয়ে ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। নূরের এই গোপন মিশন সম্পর্কে তাঁর পরিবারও জানত না। ব্রিটিশ রাজকীয় বাহিনীর একটি বিমান তাঁকে উত্তর ফ্রান্সের একটি অবতরণ-স্থানে রাতের অন্ধকারে, গোপনে নামিয়ে দেয়।
প্যারিসে এসে নূর ‘প্রসপার নেটওয়ার্ক’ নামক ব্রিটিশ গুপ্তচর দলে যোগ দেন–যারা জার্মানদের বিরুদ্ধে ফরাসি প্রতিরোধ-সংগ্রামের পক্ষে কাজ করত। কিন্তু ততদিনে জার্মান গোয়েন্দারা প্রসপার নেটওয়ার্কের খোঁজ পেয়ে গেছে। পরবর্তী দেড়মাসের মধ্যে নূর ছাড়া এই দলের দলনেতাসহ প্রায় সবাই জার্মান গেস্টাপো বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে এবং এর ফলে প্যারিসে ব্রিটিশ গোয়েন্দা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ নূরকে ইংল্যান্ডে ফিরে যেতে বলে। কিন্তু তিনি ছাড়া প্যারিসে আর কোন যোগাযোগের মাধ্যম না থাকায় চরম বিপদাপন্ন জেনেও নূর ফিরে যেতে রাজি হননি।
জার্মান-অধিকৃত এলাকায় যেখানে একজন গুপ্তচর রেডিও অপারেটরের গড় ‘আয়ুষ্কাল’ ছিল মাত্র ছয় সপ্তাহ, ফিল্ড অপারেশনের জন্য ‘আনফিট’ নূর একাই সেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গুপ্তচরবৃত্তির প্রায় অসম্ভব কাজে নেমে পড়লেন। এর মধ্যে জার্মানরা তাঁর দৈহিক বর্ণনা ও গোপন নাম জেনে ফেলল এবং তাঁকে ধরার জন্য গোটা প্যারিসজুড়ে সর্বশক্তি নিয়োগ করল।
ধরা না পড়ার জন্য নূর প্যারিসে একের পর এক অবস্থান পাল্টাতে লাগলেন। তিনি বারবার নিজের নাম, বেশভূষা, চুলের রঙ ও স্টাইল পরিবর্তন করে জার্মানদের ধোঁকা দিয়ে তাঁর কাজ চালিয়ে যেতে থাকলেন। ফরাসি ভাষা খুব ভালভাবে রপ্ত থাকায় তিনি নিজেকে ফরাসি নাগরিক প্রমাণ করে জার্মান চেকপোস্ট অতিক্রম করাসহ বিভিন্ন বিপদজনক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতেন। একসময়ের ভিতু নূর তখন দুঃসাহসী মেডেলিন।
নূর সবসময় ১৫ কেজি ওজনের গুরুত্বপূর্ণ রেডিও সেটটি সঙ্গে বহন করতেন। একদিন তিনি প্রায় ধরা পড়তে যাচ্ছিলেন। জার্মান গেস্টাপো তাঁকে তাঁর রেডিও সেটসহ চ্যালেঞ্জ করলে তিনি এটিকে সিনেমা প্রোজেক্টর হিসেবে চালিয়ে দিয়ে পার পেয়ে যান। এভাবে দূঃসাহস আর বুদ্ধির জোরে ধরা পড়ার চরম বিপদ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখে এবং তাঁর সম্পর্কে প্রশিক্ষকদের মূল্যায়ন ভুল প্রমাণ করে তিনি একাই ছয়জন রেডিও অপারেটরের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করে যাচ্ছিলেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাগ্য তাঁর সহায় থাকেনি। তবে নিজের কোন ভুলে নয়, বরং এক পরিচিতজনের অপ্রত্যাশিত বিশ্বাসঘাতকতায় প্রায় সাড়ে তিনমাস পর তিনি ধরা পড়েন। সেদিন, ১৩ অক্টোবর ১৯৪৩, কাজ শেষে নূর নিজের ফ্ল্যাটে ফিরে দেখেন সশস্ত্র গেস্টাপো তাঁকে ধরার জন্য ওঁত পেতে রয়েছে। আত্মরক্ষার জন্য তাঁকে একটি পিস্তল দেওয়া হলেও অহিংস-নীতিবাদী নূর কখনই সেটি সাথে রাখতেন না। তাই ধরা পড়ার সময় খালি হাতে একাকী লড়া ছাড়া তাঁর আর কিছুই করার ছিল না। কিন্তু তাই বলে তিনি বিনা যুদ্ধে ধরা দেননি। বরং গ্রেফতারের সময় তাঁর দুর্ধর্ষ আচরণের কারণে জার্মানরা তাঁকে ‘অতি-বিপদজনক বন্দী’ আখ্যা দেয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, ধরা পড়ার আগে নূর সবশেষ যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, সেটি ছিল প্যারিসে গেস্টাপোর সদরদপ্তর থেকে মাত্র দু’শ গজ দূরে!
ধরা পড়ার পর তাঁকে গেস্টাপো সদরদপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর তাঁর ওপর নেমে আসে কঠিন জিজ্ঞাসাবাদের ভয়ংকর খড়্গ। কিন্তু অকথ্য নির্যাতনের জন্য ইতিহাস-কুখ্যাত জার্মান এসএস গেস্টাপো তাঁর কাছ থেকে কোন কথাই বের করতে পারেনি। নির্যাতনের সীমাহীন যন্ত্রণা তিনি মুখ বুঁজে সয়েছেন, তবুও নিজের নাম ‘নোরা বেকার’ ছাড়া আর কোন তথ্য দেননি। পরবর্তীতে যুদ্ধশেষে আত্মসমর্পণকারী ও নূরকে জিজ্ঞাসাবাদকারী জার্মান গোয়েন্দা অফিসারও স্বীকার করেছিল, তারা নূরের কাছ থেকে কিছুই জানতে পারেনি, বরং তিনি একজন সুদক্ষ গুপ্তচরের মত ক্রমাগত ভুল তথ্য দিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করেছেন!
প্রায় একমাস নূরকে প্যারিসে বন্দী করে রাখা হয় এবং এর মধ্যেই তিনি দুইবার পালানোর চেষ্টা করেন। যেদিন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়, সেদিনই তিনি বাথরুমের জানালা গলে, পানির পাইপ বেয়ে প্রথমবার পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়ে যান। তারপর ২৫ নভেম্বর ১৯৪৩ তারিখে তিনি আরও দুইজন বন্দী গুপ্তচর সহকর্মীকে নিয়ে বন্দীশালার ছাদ উঠে পালান। কিন্তু কপাল খারাপ! তখনই বিমান-হামলার সাইরেন বেজে ওঠায় বন্দীশালার প্রহরীরা নিয়মানুযায়ী বন্দীর সংখ্যা গুনতে গিয়ে পালানোর ঘটনা টের পেয়ে যায় এবং বেশি দূর যাওয়ার আগেই নূর আবারও ধরা পড়েন।
সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হল, বন্দী অবস্থায়ও জার্মানরা তাঁকে দিয়ে ইংল্যান্ডে স্বাভাবিক বেতার-বার্তা পাঠানোর অভিনয় চালিয়ে যেতে বাধ্য করে এবং এরকম একটি বার্তায় তিনি তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ধরা পড়ার পূর্ব-নির্ধারিত সংকেত পাঠান। কিন্তু বার্তায় উল্লেখিত তাঁর গ্রেফতার হওয়ার সেই সংকেতটি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে যায়। নূরের ধরা পড়ার বিষয়টি তারা তখনও বুঝতে পারেনি।
নূর বারবার পালানোর চেষ্টা করায়, ‘তিনি আর পালাবেন না’–এই মর্মে তাঁর কাছে থেকে জার্মান গোয়েন্দারা লিখিত মুচলেকা নিতে চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন। এরপর জার্মানরা তাঁকে আর প্যারিসে রাখা নিরাপদ মনে করেনি। ২৭ নভেম্বর ১৯৪৩ তারিখে তারা তাঁকে প্রথম বন্দী গুপ্তচর হিসেবে কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে জার্মানিতে স্থানান্তর করে একটি কারাগারে রাখে। পরে তাঁকে অন্য একটি দুর্ভেদ্য, নিরাপদ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। ‘বিপদজনক ও অসহযোগী কয়েদি’ বিবেচনা করে তাঁকে মূল কারাগার থেকে দূরে একটি বিচ্ছিন্ন, নির্জন সেলে রাখা হয় এবং তাঁর হাতে পায়ে লোহার ডাণ্ডাবেড়ি ও কোমরে শিকল পরানো হয়। তিনি তখন এমন এক কয়েদি–বিস্মৃতি ও মৃত্যুই যার একমাত্র পরিণতি।
পরের দশটি মাস কারাগারে অবর্ণনীয়, অমানুষিক, অসহ্য নির্যাতনের এক জীবন কাটান নূর। কিন্তু কোন কিছুই তাঁকে মচকাতে পারেনি। সব কষ্ট, সব যন্ত্রণা তিনি সহ্য করে গেছেন দিনের পর দিন। শেষ পর্যন্ত জার্মানদের কাছে নতি স্বীকার করেননি। বরং এত চেষ্টা করেও তারা কোনদিন তাঁর আসল নামটা পর্যন্ত জানতে পারেনি–অন্যান্য তথ্য তো দূরের কথা।
অবশেষে ১৯৪৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারিখে নূরকে দাচাউ বন্দীশিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরের দিন ভোরে জার্মানরা আরও তিনজন বন্দিনীসহ তাঁকে ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে হত্যা করে। অসম সাহস, অনন্য কর্তব্যনিষ্ঠা আর সীমাহীন যাতনার এক জীবনের অবসান হয় এভাবেই।
নূরের অবদানের মরণোত্তর স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ব্রিটিশ সরকার ব্রিটেনের সর্বোচ্চ বেসামরিক বীরত্বপদক ‘জর্জ ক্রস’ (George Cross) এবং ফরাসি সরকার ‘ক্রস অব ওয়ার’ (Croix de Guerre)-এ ভূষিত করেছিল। আজও প্রতি বছর ১৪ জুলাই ফ্রান্সের বাস্তিল দিবসে ফরাসি সামরিক বাদক দল প্যারিসের ‘ফজল মঞ্জিলের’ সামনে নূরকে সম্মান জানায়।
মহীশুরের বাঘ, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী সংগ্রামে শহীদ, রাজা টিপু সুলতানের বংশধর, ‘প্রিন্সেস’ নূর ইনায়েত খান ব্রিটিশদের পক্ষ হয়ে জার্মান আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল, যুদ্ধশেষে তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে স্বদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। তা আর হয়নি।
তথ্যসূত্র:
[লেখাটি অন্যান্য ব্লগেও প্রকাশিত]